শবে কদর নামাজের নিয়ম 2022 । শবে কদরের নামাজ কত রাকাত

শবে কদর নামাজের নিয়ম 2022 । শবে কদরের নামাজ কত রাকাত .আজ দেখব শবে মেরাজের নামাজের নিয়ম। লাইলাতুল বরাত নামাজের নিয়ম কিভাবে দেখুন আমার পোস্ট দেখুন।শবে কদরের নামাজ বিতরের আগে না পরে পোস্ট পরে দেকুন।শবে কদরের নামাজ কত রাকাত

শবে কদর নামাজের নিয়ম 2022

লাইলাতুল কদর আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো বরকতময়, সম্মানিত বা মহিমান্বিত রাত। ফারসি ভাষায় একে শবে কদর বলা হয়। এই রজনীতে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সারারাত নফল নামাজ, কোরাআন ও হাদিসের আলোকে জিকির, কবর জিয়ারত এবং নিজের কৃত গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকেন।

নামাজের নিয়ত আরবিতে

‘নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়া’লা রাকআ’তাই ছালাতি লাইলাতিল কদর-নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল্ কা’বাতিশ্ শারীফাতি আল্লাহু আকবার’।

শবে কদরের নামাজ

লাইলাতুল কদরে বিশেষ কোনো নামাজের পদ্ধতি নেই। লাইলাতুল কদরের রাতে নামাজ দুই রাকাত করে যত সুন্দর করে পড়া যায়, যত মনোযোগ সহকারে পড়া যায় ততই ভালো। আল্লাহ সুবহানাআলাতায়ালার প্রতি যত খুশু খুজুসহকারে নামাজ আদায় করা যায়, ততই ভালো। দুই রাকাত, দুই রাকাত করে আপনি যত খুশি পড়তে পারবেন। এছাড়া বিশেষ কোনো সূরা পড়তে হবে-এটা লোকমুখে প্রচলিত আছে, তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। এই রাতে কোরআন তেলাওয়াত করবেন। বেশি বেশি দোয়া পড়বেন। ইস্তেগফার পড়বেন। তওবা করবেন। এই রাতে ভালো কাজ করবেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।

এই রাতে যে দোয়া বেশি পড়বেন 

হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, শবে কদরের রাতে আমার কোন দোয়াটি পড়া উচিত?’ তিনি তাঁকে পড়ার জন্য নির্দেশ দিলেন-‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।’

অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তাই আমাকে ক্ষমা করুন।’ (সুনানে ইবনে মাজা)। 

লাইলাতুল বরাত নামাজের নিয়ম

শবে-কদরের নামাজ দুই রাকআত করে চার রাকআত পড়তে হয়। এরপর যত ইচ্ছা নফল নামাজ পড়া যায়। এই নামাজের প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর একবার সূরা কদর ও তিনবার সূরা ইখ্‌লাস পড়তে হয়।

শবে কদরের নামাজ কত রাকাত

শবে-কদরের নামাজ দুই রাকআত করে চার রাকআত পড়তে হয়। এরপর যত ইচ্ছা নফল নামাজ পড়া যায়। এই নামাজের প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার পর একবার সূরা কদর ও তিনবার সূরা ইখ্‌লাস পড়তে হয়।

নামাজ শেষে নিচের দোয়াটি কমপক্ষে একশত বার পড়া উত্তম:

“সুব্‌হানাল্লাহি ওয়াল হাম্‌দু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর, লা হা’ওলা কুয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহিল্‌ আলীয়্যিল আযীম”।

শবে কদরের নামাজ বিতরের আগে না পরে ?

জনাব, আসসালামু আলাইকুম ।

আমরা ছোট বেলা থেকেই রমজানের শেষের দশ দিনের বেজোড় রাত গুলোতে দুই রাকাত শবে কদরের নামাজ পড়ে আসছি, এবং সেটা তারাবি শেষে বিতর নামাজের আগে পড়ি ।

তো আমাদের মসজিদের বর্তমান ইমাম সাহেব তারাবি শেষে বিতর পড়ে ফেলেন এবং বলেন যে এইটা কোন নিয়ম না আর বিতরের পরেই শবে কদর পড়া উচিৎ ।

(আমি জানি যে, কেউ ঘুমিয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে বিতর পড়ে নিবে অন্যথায় শবে কদর বা তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে বিতর পড়বে । যদিও এখানে কেউ ঘুমিয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল না তাই শবে কদরের নামাজ শেষেই সবাই বিতর পড়তে ইচ্ছুক ।)

এ নিয়ে অনেক মুসল্লি নাখোশ ।

আমি জানতে চাচ্ছি যে যদি বিতরের পরেই শবে কদরের নামাজ পড়া উচিৎ বা ভাল তাহলে বিগত ইমাম সাহেবরা বা আমাদের এলাকার কোন ইমাম,আলেম এ নিয়ে কিছু বলেন না কেন?

আর বিতরের আগে পড়াও যদি ঠিক হয় তাহলে আমাদের ইমাম সাহেব কেন মুসল্লিদের মাঝে দ্বিধার সৃষ্টি করছেন?

এমরান হাসান

সুনামগঞ্জ ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

রমজান মাসে জামাতের সাথে বিতর নামায পড়ার বিষয়টি এবং সাহাবায়ে কেরাম রাঃ থেকে প্রমাণিত।

কিন্তু এর মাঝখানে লাইলাতুল কদরের নামে দুই রাকাত সালাতের সুযোগ দেয়ার কোন কথা সাহাবাগণ থেকে প্রমাণিত নয়।

তাই এর উপর চাপাচাপি করা বা ইমাম সাহেব সুযোগ না দিলে অসন্তুটি প্রকাশ করা যাবে না। রমজান ছাড়া অন্য সময়ে রাতের শেষ ভাগে বিতর পড়া উত্তম। কিন্তু রমজান মাসে তারাবী শেষে জামাতে বিতর পড়া উত্তম।

এ কারণে তারাবী শেষে জামাতে বিতর না পড়ে আগে নফল নামায পড়ার জন্য বাধ্যবাধকতা করা যাবে না। এমনিতে পড়তে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না।

লাইলাতুল কদরের ফযীলত পাবার আশায় নফল নামায সারা রাতব্যাপীই পড়া যায়। তারাবীর সাথে সাথেই পড়তে হবে এমনটি মনে করার কোন সুযোগ নেই। তাই এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: ” دَعَا الْقُرَّاءَ فِي رَمَضَانَ فَأَمَرَ مِنْهُمْ رَجُلًا يُصَلِّي بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً “ قَالَ: وَكَانَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يُوتِرُ بِهِمْ “

হযরত আলী রাঃ রমজান মাসে কারীদের একত্র করে লোকদের বিশ রাকাত তারাবী পড়ার আদেশ দেন। তারপর তিনি নিজেই বিতর সালাত পড়ান। [সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৪২৯১]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

শবে কদর নামাজের নিয়ম ভিডিও 2022

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *